দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, নাকাল প্রান্তিক জনপদের মানুষ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক ও তেঁতুলিযা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩
ছবি : বাংলাদেশের খবর
দেশের ২৪ জেলায় আজ বৃহস্পতিবার শৈত্যপ্রবাহ বইছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবারের তুলনায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকার সংখ্যা কমেছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। রাজধানীর তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের শৈত্যপ্রবাহ কয়েক দিন চলতে পারে। এ মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি কম-বেশি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার মতো আট জেলাতেও শৈত্যপ্রবাহ আছে। সব মিলিয়ে দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। তখন নওগাঁর বদলগাছীতে তাপমাত্রা ছিল ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ছিল। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রা অনুযায়ী ভাগ করেছেন— ৮.১–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।
শাহীনুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন চলতে পারে। এতে নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে আবার কিছু জেলা বাদ পড়তে পারে। তবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে না।
উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড় শৈত্যপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে বিপর্যস্ত। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আয় রোজগারের ক্ষতি ও তীব্র শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও পশুপাখি কষ্টে রয়েছে।
জেলায় গতকাল থেকে আজকের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬ ও ৯টায় রেকর্ড করা হয়েছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ছিল ৮.৬ ডিগ্রি।
স্থানীয় মানুষ ও চা-শ্রমিকরা জানান, ভোর থেকেই কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কষ্ট পাচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্ররা শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ভিড় করছেন। বাড়িতে খড়কুটোয় আগুন ধরিয়ে ঠান্ডা নিবারণ করতে দেখা গেছে অনেককে।

শীতবস্ত্রের অভাবে নারীরা গৃহস্থালী কাজ করতে কষ্ট পাচ্ছেন। চাষিরাও শীতের কারণে বীজতলায় চারা স্বাভাবিকভাবে বড় হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শীতে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন সর্দি, কাঁশি, জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন মানুষ। অধিকাংশ রোগী শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। চিকিৎসকরা রোগীর সঙ্গে শীতে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন।
এমএইচএস

