ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস হত্যা : নেতৃত্বদানকারী আরাফাত গ্রেপ্তার
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৫
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার বিডি লিমিটেড কারখানায় পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম মূল হোতা ও নেতৃত্বদানকারী মো. ইয়াছিন আরাফাতকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির সহযোগিতায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর ফ্যাক্টরীর গেটে স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করা, দিপুকে নৃশংসভাবে মারধর করে গেটের সামনে হত্যা এবং পরবর্তীতে নিথর দেহে রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ইয়াছিন আরাফাত।
গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি গত ১৮ মাস ধরে উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমাম এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর সে আত্মগোপনে চলে যায় এবং ডেমরার সারুলিয়া এলাকার একটি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করেন। ১২ দিন পলাতক থাকার পর প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
পুলিশ জানায়, দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৩ জন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের রিমান্ডের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিল্পাঞ্চল ভালুকায় সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইয়াছিন আরাফাতের সংশ্লিষ্টতা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ডিজিটাল আলামতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোমান আহমেদ নকিব/এনএ

