রংপুর-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১১
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ঘিরেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠছে। মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটার সমর্থনের হিসাব-নিকাশে আসনটি এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে একই নাম ও পদবির দুই প্রার্থী। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী; দুই দল থেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। একজন গণিত বিভাগের অধ্যাপক, অন্যজন বিজ্ঞান বিভাগের। নাম, পদবি ও পেশাগত পরিচয়ের এই কাকতালীয় মিল এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রংপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জোরালো গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনিও সমানতালে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একসময় এ আসনটি জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় এই আসনে দলটির দাপট ছিল স্পষ্ট। তবে সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এবার জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও অন্য দুই প্রধান প্রার্থীর তুলনায় প্রচার-প্রচারণায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান আনিছ মুঠোফোনে বলেন, দলীয়ভাবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দুই অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন; তা নিয়েই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের ৯১৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার নারী ভোটারের সংখ্যাও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে মানুষ নিপীড়িত হয়েছে। ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। জনগণের সমর্থন আমাদের পক্ষে রয়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, মানুষ এখন বিভ্রান্তির রাজনীতি বুঝতে পারছে। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয় নিশ্চিত।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর বলেন, লাঙ্গল এই এলাকার মানুষের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক। প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হলে আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাখিবুল হাসান রাখিব/আইএইচ

