বুড়িমারী স্থলবন্দরে ওভারলোডিং ও ‘কমলা সিন্ডিকেট’র দৌরাত্ম্য
রাহেবুল ইসলাম টিটুল, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫১
ছবি : বাংলাদেশের খবর
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দিন দিন বাড়ছে ওভারলোডিংয়ের প্রবণতা এবং তথাকথিত ‘কমলা সিন্ডিকেট’র দৌরাত্ম্য। এসব সিন্ডিকেটের বেআইনি প্রভাব ও অতিরিক্ত খরচের চাপে সাধারণ আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের প্রতিটি ধাপে সিন্ডিকেটের লোকজনের চাপ ও বাড়তি টোল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ওজনের বেশি পণ্য বইতে বাধ্য করায় ঝুঁকির মুখে পড়ছেন পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং বন্দরের রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুটান থেকে কমলালেবু আমদানিকারক ও ঢাকার ফল ব্যবসায়ী জানান, ফল আমদানিতে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ট্যাক্সমুক্ত করা হলেও প্রতি গাড়িতে স্থলবন্দর কাস্টমসকে দিতে হয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে আরও অর্থ দিতে হয়। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে দিতে হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শুল্ক গোয়েন্দা ২০০ টাকা, ব্রাঞ্চ বি.ই. ২২০ টাকা, পোকামাকড় নিবারণ ফি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন ৫০০ টাকা এবং কোর্ট ফি ৫০ টাকা। এভাবে বন্দরে শীতের ফলের ট্রাক ঢুকলেই পদে পদে গুনতে হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রায় ৭৫০টি ভুটানের কমলালেবুর ট্রাক বুড়িমারী বন্দরে প্রবেশ করে।
প্রতি ট্রাক থেকে সাড়ে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকা উল্লিখিত খাতভিত্তিক আদায় করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর আউটপাস আটকে দেওয়া সহ নানা রকম হয়রানি চালানো হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা নীরবেই স্পিড মানি দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত সিন্ডিকেটবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ অবস্থার অবসান না হলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বুড়িমারী কাস্টমস সুপার (রাজস্ব) দয়াল মন্ডলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘অফিসে আসুন, কথা বলব।’
সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভালোই খবর রাখেন। তবে আমি এসব খবর রাখি না। এখানে এসে অনেক কথা শুনি, বাতাসে ভাসে। যেখানে ফলের কোনো ট্যাক্স নেই, তারা কেন টাকা দেবে? কোনো সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী তো আমাকে অভিযোগ করেনি।’
এআরএস

