ছবি : বাংলাদেশের খবর
যশোরে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল বাতাসের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে যশোরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা দিচ্ছে। ঠান্ডার প্রকোপ এবং ফুসফুস সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতার কারণে এটি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাইরে বা ঘরে যতটা সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।’
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে ৫৪ জন শিশু।
স্থানীয়রা জানান, তীব্র ঠান্ডার কারণে অনেকেই ঘরের ভিতর আগুন জ্বালিয়ে বা উষ্ণ কাপড় ব্যবহার করে ঠান্ডা কমানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার পাঁচ মাসের ছেলে শীতের কারণে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। এখন সে কিছুটা সুস্থ।’
মুন্সি মহিউদ্দিন, শেখ সদরুল আলম, মনিরা খাতুন ও উম্মে হানিসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তীব্র শীতে তাদের পিতামাতা বা আত্মীয়রা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই কেউ কেউ মারা গেছেন।
শহিদ জয়/এমএইচএস

