প্রশাসকের পক্ষ থেকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ আহ্বানে বিলবোর্ড
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৫
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুমোদনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা। তবে নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণায় সরকারি প্রশাসনের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজার ও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসকের পক্ষ থেকে বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডে ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে এবং গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট প্রদানের জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এভাবে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ অবলম্বন করে প্রচারণা চালানোয় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণভোটের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রস্তাবিত বিষয়ের ওপর জনগণের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত যাচাই করা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন আগেভাগেই 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা চালানো হয়, তখন ভোটের কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রমজান শেখ নামে স্থানীয় এক ভোটার বলেন, ‘গণভোটের অর্থ হলো আমরা আমাদের মতামত দেব। কিন্তু প্রশাসন যদি নিজেই বিলবোর্ড দিয়ে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে বলে, তবে ভোটের আর প্রয়োজন কী থাকে? এটি কি পরোক্ষভাবে জনমতকে প্রভাবিত করা নয়?’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। কোনো পক্ষ হয়ে প্রচারণা চালানো প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এ ধরনের একপাক্ষিক প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে যেভাবে বার্তা পেয়েছি, সেইভাবেই বিলবোর্ডে প্রচার করা হয়েছে। পৌরসভার অর্থায়নে বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে, সে কারণেই প্রচারে ‘প্রশাসক, আলফাডাঙ্গা পৌরসভা’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে বড় ধরনের কিছু সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’- এর ওপর জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেওয়া হবে। সরকার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে দেশবাসী একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলেও প্রশাসনের এমন ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

