Logo

সারাদেশ

শীত মৌসুমে মেঘনায় পোনা নিধনের মহোৎসব

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪২

শীত মৌসুমে মেঘনায় পোনা নিধনের মহোৎসব

ছবি : বাংলাদেশের খবর

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে বিভিন্ন ছোট প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধরা হচ্ছে। শীত মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু জেলে অবৈধ জাল দিয়ে এসব মাছ নিধন করছে। মৎস্য বিভাগের বক্তব্য, রেনু পোনাসহ ছোট মাছ ধ্বংসকারী বেহুন্দি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেঘনার উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নদীতে অধিকাংশ মাছ শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীতকালে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, বেলে, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় নদী ভরপুর থাকে। তবে কিছু অসাধু জেলে নানা ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এসব পোনা নির্বিচারে নিধন করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরান বাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালি এলাকায় রাতের বেলায় অসাধু জেলেরা ছোট মাছ ধরে। দিনের বেলা এসব জাল ও নৌকা পাড়ে এনে রাখা হয়। ভোর থেকে নদীর পাড়ে পাইকারি বেচাকেনা হয়। পরে বাজার ও শহরের অলিগলিতে এসব ছোট মাছ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

সদরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে তারা পাতাজাল, বেহুন্দিজাল, মশারিজালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, কাঁকড়াসহ উপকারী বিভিন্ন জলজ প্রাণী উঠে আসে। নিধন করা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করা হয়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় হাজারো জেলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট সাইজের বেলে গুড়া বা সাগরের পোনার নামে বিভিন্ন মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পিছনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ নৌকা দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ বেচাকেনা হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন লিটন গাজী, কাঞ্চন, মানিক, হান্নান, কাসিম ছৈয়াল, বাদল, আরশাদ। তারা প্রকাশ্যে বলেন, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য অফিসকে ‘ম্যানেজ’ করে তারা এ কাজ করছেন।

পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকার কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর মাছের পোনা পাওয়া যায়। গুড়া মাছ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ-পুলিশকে ‘হাত’ করতে হয়। পরে জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন তারা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে মাছের উৎপাদন প্রতিনিয়ত কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েোছ। বিষয়টি আমরা অবগত। গত সপ্তাহে একাধিক অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারিজাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলআমিন ভূঁইয়া/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর