কুমিল্লায় ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জমির মাটি কাটার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার টংগির পাড় ও দীঘলগাঁও মৌজায় সড়ক প্রশস্তকরণের নামে ক্ষতিপূরণ ও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যক্তিমালিকানার জমির মাটি কাটা ও ভরাটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সদর দক্ষিণ উপজেলার টংগির পাড় এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা থেকে শানিচর পর্যন্ত সড়কটি ২২ নভেম্বর ২০২২ সালে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের অনুমোদনে সড়কের মান ও প্রশস্ততা উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণসহ ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
তবে বাস্তবে রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ বিভাগের আওতাধীন এ প্রকল্পের মৌলভী হাটখোলা থেকে টংগির পাড় চৌমুহনী অংশে ক্ষতিপূরণ ও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ব্যক্তিমালিকানা জমির মাটি কেটে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত জমি ভরাট করে সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এতে টংগির পাড় ও দীঘলগাঁও মৌজার অসংখ্য জমির মালিক চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার বলেন, ‘আইন ও প্রকল্পের শর্ত উপেক্ষা করে আমাদের ব্যক্তিমালিকানা জমিতে কাজ করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ ছাড়া এভাবে জমি নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক।’
এ সময় বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদার ও বাগমারার চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যক্তিমালিকানা জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন। এলাকাবাসীর আপত্তি ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আর্মি আবুল বাশার, আব্দুল অদুদসহ অন্যান্য বক্তারা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে টংগির পাড় ও দীঘলগাঁও মৌজার জমি ক্ষতিপূরণসহ অধিগ্রহণের মাধ্যমে সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানান। অন্যথায় এলাকাবাসী আইনগত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঠিকাদার আবুল কাশেম বলেন, ‘এ কাজ আমার না। তারা কেন আমার নামে সংবাদ সম্মেলন করল?’
কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কুদ্দুস, জিয়াউল হক, সুলেমান, বিল্লাল, জাকির মজুমদার, অহিদুর রহমান, শাহ আলম, ধীরেন্দ্র বাবু, চন্দন, হারুনসহ টংগির পাড় ও দীঘলগাঁও মৌজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এআরএস

