হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। টানা তিনদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত এ অঞ্চলের জনজীবন। ছবি : বাংলাদেশের খবর
হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। টানা তিনদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত এ অঞ্চলের জনজীবন। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্বাভাবিক পথচলায়ও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের সর্বনিম্ন। শনিবার সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও শুক্রবার ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর সকালেই সূর্যের মুখ দেখা গেলেও কনকনে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেক স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় মানুষদের। তবে পেটের তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে পাথর ও চা শ্রমিকদের।
চা শ্রমিক নাসির জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। মনে হয় তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গেছে। রাতে টিনের চালে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু কাজ না করলে তো পরিবার চলবে না, তাই বাধ্য হয়েই বের হতে হয়েছে।

শীতের কারণে গৃহস্থালি কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আলেয়া ও ফিরোজা নামের স্থানীয় দুই নারী জানান, রাতভর বৃষ্টির মতো শিশির ঝরে। ঘরের আসবাবপত্র আর মেঝে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় নিত্যদিনের কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। চিকিৎসকরা সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা এবং ঠান্ডা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, জেলায় তাপমাত্রা কয়েকদিন ধরেই ওঠানামা করছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের সর্বনিম্ন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও শুক্রবার ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকার কারণে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
এসকে দোয়েল/এমবি

