Logo

সারাদেশ

শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পঞ্চগড়ে

Icon

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১

শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পঞ্চগড়ে

হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ছবি : বাংলাদেশের খবর

হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক পথচলায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি। রোববার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং শুক্রবার রেকর্ড হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে শীতের তীব্রতা কমেনি। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষজন। কনকনে শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অসহায় মানুষদের। তবে জীবিকার তাগিদে চরম শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের।

ভ্যানচালক মো. কালাম জানান, খুবই ঠান্ডা পড়েছে। ঠান্ডার কারণে ভ্যানে যাত্রী উঠতে চায় না। ভোর সকালে ভ্যান চালাতে গেলে হাত দুটো যেন অবশ হয়ে আসে। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

চা শ্রমিকরা জানান, এমন প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। মনে হয় তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গেছে। রাতে টিনের চালে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু কাজ না করলে পরিবার চলবে না, তাই বাধ্য হয়েই কাজে বের হতে হচ্ছে।

শীতের কারণে গৃহস্থালি কাজেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। আলেয়া ও ফিরোজা নামের স্থানীয় দুই নারী জানান, রাতভর বৃষ্টির মতো শিশির ঝরে। এতে ঘরের আসবাবপত্র ও মেঝে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে নিত্যদিনের কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

পঞ্চগড় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, জেলায় কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। 

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার থেকে টানা তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করায় জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

এসকে দোয়েল/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আবহাওয়া

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর