Logo

সারাদেশ

মৌমাছি পালনে বাড়তি লাভ, সরিষার ফলনেও ইতিবাচক প্রভাব

Icon

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭

মৌমাছি পালনে বাড়তি লাভ, সরিষার ফলনেও ইতিবাচক প্রভাব

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মাঠজুড়ে এখন হলুদের সরিষা ফুলের সমারোহ। সেই সঙ্গে চোখে পড়ছে সারিসারি মৌমাছির বাক্স। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে গোটা উপজেলাজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। শীতকালীন সরিষা মৌসুমে ফসলি মাঠে এ দৃশ্য এখন নিয়মিত।

মৌচাষিরা ফসলি মাঠের নির্দিষ্ট স্থানে শত শত মৌ-বাক্স সাজিয়ে রাখেন। এসব বাক্সে মৌমাছির আবাস গড়ে ওঠে এবং বিশেষ পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবারও সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌচাষিরা কলারোয়ার বিভিন্ন গ্রামের সরিষা ক্ষেতে মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স স্থাপন করেছেন।

মৌচাষি আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সরিষা ক্ষেত থেকে বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করা যায়। বাকি আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছি লালন-পালন করতে হয়। গত বছর মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌমাছি পালনে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।’

তিনি আরও জানান, আকারভেদে একটি বাক্সে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। তার কাছে মৌচাষের বিশেষ বাক্স কলোনি রয়েছে ১০০টি। প্রতিটি কলোনিতে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কলোনি থেকে ৬-৭ হাজার টাকা লাভ হয় বলে তিনি জানান।

এছাড়া মধু চাষের ফলে সরিষার পরাগায়ন ভালো হয়, ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করেন। গত কয়েক বছর ধরে সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এ পেশার মাধ্যমে মৌচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। পাশাপাশি মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার ফলনও বাড়ছে।

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. জিয়াউল হক জানান, মৌচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে তেলজাতীয় ফসলের ক্ষেতে মৌচাষ প্রকল্পের আওতায় এবারও সাতজন কৃষককে কয়েক শতাধিক মৌ-বাক্স ও মধু সংগ্রহ যন্ত্র বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মৌচাষিদের সরিষার জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য উৎসাহিত করি। এতে পরাগায়ন ভালো হয়, তেলের উৎপাদন বাড়ে। ফলে কৃষক ও মৌচাষি—উভয়ই লাভবান হন।’

এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর