নারী ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা
৬০ বছরের রেওয়াজ ভাঙতে ফরিদগঞ্জে তৎপর প্রশাসন
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা দীর্ঘকাল ধরে এক পীরের দেওয়া ধর্মের অপব্যাখ্যার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভোট দেন না। ১৯৬৯ সাল থেকে চলমান এই প্রথা ভাঙতে প্রতিটি নির্বাচনে সরকারি উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে এবার জোরেশোরে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরপক্ষিয়া গ্রামে নারী ভোটদানে উদ্বুদ্ধকরণ ও গণভোট বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেতু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহজাহান মামুন, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন ও রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমদ ও স্থানীয় দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি সোহেল খান।
নারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য খুকি বেগম, রুপালি দেবনাথসহ উপস্থিত নারীরা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোরআন ও হাদিসের আলোকে পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট প্রদান ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। পীর-মাশায়েখরা কখনোই ধর্মের অপব্যাখ্যা দেন না। আমরা পর্দা মেনেই সকল কাজ করতে পারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারীদের জন্য সর্বোচ্চ পর্দার ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের বুথে নারীরাই ভোট গ্রহণ করবে, সকল দায়িত্ব নারীরাই পালন করবে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে না এলে আপনি গণভোট দিতে পারবেন না। ফলে আগামী বাংলাদেশ গঠনে আপনার অংশীদারিত্বও থাকবে না।’
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ২৯৯ জন। পড়াশোনা, বাজার ও দৈনন্দিন কাজে ঘরের বাইরে বের হলেও নির্বাচনের দিন ঘরেই সময় কাটান এই ইউনিয়নের নারীরা।
উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এই ইউনিয়ন থেকে। পুরুষদের প্রবাসে থাকায় নারীরাই হাটবাজারসহ সব কাজ সামলান। তবে ভোটের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম দেখা যায় এখানে। গত প্রায় ৬০ বছর ধরে সব ধর্মের নারীরা ভোটপ্রদান থেকে বিরত। সর্বশেষ কয়েকটি নির্বাচনে কেবল প্রার্থীদের স্বজনরাই ভোট দিয়েছেন, যা শতকরা হাজারে অঙ্কেও আসে না।
ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নের নারী ভোটাররা জড়তা, ভয় ও আতঙ্ক কাটিয়ে ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন কি না, সেই প্রশ্নই রয়ে গেছে।
নূরুল ইসলাম ফরহাদ/এআরএস

