হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ২ আনসার সদস্য আটক
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে নাইট ডিউটি পালনকালে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানাবাড়িতে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। পথিমধ্যে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের গেটে ডিউটিরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের দশ তলার নিচতলায় স্বামীকে রেখে দ্বিতীয় তলায় ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আনসার সদস্যরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে এসে স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিউটিরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে আনলে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার মুস্তাকিম আলম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়েটি যেন সঠিক চিকিৎসা পায়, সেই বিষয়টি দেখার জন্য হাসপাতালে এসেছি। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
জেলা আনসার কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ে সহকারী কমান্ডার অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অভিযুক্তরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, ‘আমি আনসার সদস্যদের ডেকে পুরো বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
আফ্রিদি আহাম্মেদ/এআরএস

