আলফাডাঙ্গা
ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৯
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার ইছাপাশা গ্রামে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে ‘ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা’। আলফাডাঙ্গা-কাশিয়ানী প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসা একাডেমিক উৎকর্ষ এবং আদর্শ মানুষ গড়ে তোলায় উপজেলায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মাদ্রাসায় বর্তমানে ১০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে ২২০ জন শিক্ষার্থী কুরআন ও আধুনিক শিক্ষার পাঠ গ্রহণ করছেন। নূরানী তা'লীমূল কুরআন বিভাগ (প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি) এবং হেফজ বিভাগে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০২৪ সালে ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করেছে, যার মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং ৩ জন জিপিএ-৫ লাভ করেছে।
মাদ্রাসার মাহফিলে ৩ জন কৃতি শিক্ষার্থী কুরআন হেফজ সম্পন্ন করে সম্মানজনক পাগড়ি লাভ করেছেন। হেফজ বিভাগে বর্তমানে ৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী সুশৃঙ্খল পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মাদ্রাসা। শিক্ষকরা ইসলামি ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুন্সি বিল্লাল হোসাইন বলেন, এটি আমাদের এলাকার দ্বীনি শিক্ষার জন্য আদর্শ প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগোবে।
মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা শুধু শিক্ষা প্রদান করি না, বরং প্রতিটি শিশুকে একজন আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মিশনে কাজ করি। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতেই নূরানী ও হেফজ বিভাগের শিক্ষায় আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
মিয়া রাকিবুল/আইএইচ

