Logo

সারাদেশ

শুল্ক ফাঁকিতে সংঘবদ্ধ চক্র

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ জব্দ

Icon

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩২

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ জব্দ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ জব্দের ঘটনা কেবল একটি চালান আটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দর ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণার বাইরে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা চালানো হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিশ’, বোয়াল, ফলি ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেটের মধ্যে ৫৪ প্যাকেটে প্রায় সাড়ে তিন টন ভারতীয় ইলিশ পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশি আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয় সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজকে এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান লিংক ইন্টারন্যাশনাল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই তিন পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তা ঊদ্ধব চন্দ্র পাল তার পদের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু সি অ্যান্ড এফ এজেন্টকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। বিনিময়ে প্রতিটি চালানের বিপরীতে তিনি মোটা অঙ্কের মাসোহারা ও ঘুষ গ্রহণ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ইলিশ জব্দের ঘটনাটি সেই অভিযোগেরই প্রমাণ। শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই অবৈধ আমদানির পেছনে কিছু কর্মকর্তার সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার আমদানিকারক ব্যবসায়ী মো. সুরত আলী বলেন, ঊদ্ধব চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, এমনকি সম্প্রতি গণমাধ্যমেও সেগুলো এসেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে মাঠপর্যায়ে বার্তা যায়, অভিযোগ করলেও কিছু হয় না। এই কারণেই মিথ্যা ঘোষণার মতো অনিয়ম বারবার ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ ওঠা মানেই ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। শুরুতেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে এত বড় চালান জব্দের ঘটনা হয়তো ঘটত না।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

শহিদ জয়/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

স্থলবন্দর ইলিশ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর