পঞ্চগড়
মাঘের বাঘ কাঁপানো শীতের শুরু, ৭ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
শীতের তীব্র ঝাঁঝা মাঘের হাতে দিয়ে বিদায় নিয়েছে পৌষ। মাঘের বাঘ কাঁপানো শীতে কাঁপছে উত্তরের পঞ্চগড়। টানা দশ দিন ধরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় এ জেলায়। ৯ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা কয়েক দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে উত্তরের এই জেলায়। গত ১০ দিন ধরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশা ভেদ করে দেখা মিলেছে পূবালী সূর্যের। সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের দাপটে রোদের উষ্ণতা যেন ম্লান হয়ে যায়। পেটের তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই পাথর ও চা শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিকেল গড়ালেই উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিমেল বাতাস বইতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা বাড়ে, যা ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
স্থানীয় পাথর শ্রমিক কামাল ও জুয়েল জানান, ঠান্ডায় হাত-পা সব অবশ হয়ে আসে। রাতে মনে হয় তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। টিনের চালে শিশির পড়ার শব্দ শুনলে বৃষ্টির মতো মনে হয়। কিন্তু কাজ না করলে তো পেট চলবে না, তাই বরফশীতল পানিতেই নামতে হচ্ছে। সারাদিন বরফ জলে কাজ করতে গিয়ে রাতে সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তারা। একই কথা জানান দিনমজুর, নারী পাথর শ্রমিকসহ অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষও।

এদিকে শীতের কারণে ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগবালাই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকেরা এই সময়ে সবাইকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, জেলার তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় টানা ১০ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল বুধবার দেশের সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এর আগে মঙ্গলবার ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দিনের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনভর রোদ থাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে তাপমাত্রার এই ওঠানামার কারণে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এস কে দোয়েল/এমএইচএস

