Logo

সারাদেশ

নীলফামারীতে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট, অধিক দামে বিক্রি

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০১

নীলফামারীতে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট, অধিক দামে বিক্রি

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারাদেশের মতো নীলফামারীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ভোক্তা ও ডিলাররা। সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্থানীয় ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, এলপিজির কৃত্রিম সংকট রোধ ও ভোক্তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম বলেন, বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য ও বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। এতে বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এলপিজি ডিলারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ রাখারও অনুরোধ করেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন স্বপন জানান, দেশের ৩৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চার-পাঁচটি নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে, ফলে সারাদেশেই সংকট তৈরি হয়েছে। তবুও নীলফামারীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা কয়েকটি এলপিজি জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র জটিলতায় আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফলে সরকারি দামের চেয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। নীলফামারী সদর উপজেলার চা দোকানি আলাউদ্দিন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি ১ হাজার ৮০০ টাকায়, বুধবার সেটাই কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকায়।’

পলাশবাড়ী বাজারের চা বিক্রেতা মিজান বলেন, ‘গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। যাঁর কাছ থেকে গ্যাস নিতাম, তিনি ফোনেও পাওয়া যাচ্ছেন না।’

গাছবাড়ি এলাকার হোটেল মালিক শামসুল জানান, ‘১৫ দিন ধরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ২২ কেজির বদলে ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করছি।’

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের মতে, বিইআরসি বাজার তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও কমিশনের দাবি, বেসরকারি অপারেটরদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং সংকট কাটাতে প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানান, সংকট মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

তৈয়ব আলী সরকার/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গ্যাসের দাম এলপিজি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর