Logo

সারাদেশ

চরফ্যাসনে নড়বড়ে কাঠের ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, আতঙ্কে ১৫০ পরিবার

Icon

এম ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা)

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৬

চরফ্যাসনে নড়বড়ে কাঠের ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, আতঙ্কে ১৫০ পরিবার

চরফ্যাসনের জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজপুর গ্রামে খালের ওপর নির্মিত কাঠের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ। ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় একটি খালের উপর কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী ব্রিজ দিয়ে স্থানীয়দের প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবন-ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটি চরফ্যাসন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজপুর গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের হাবিব উল্লা মাঝি বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন বাসিরদোন খালের উপর অবস্থিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটির দুই পাড়ে প্রায় ১৫০ পরিবারের বসবাস। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল পারাপারের জন্য পাঁচ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে।

শুরুতে চলাচলের উপযোগী থাকলেও সময়ের ব্যবধানে ব্রিজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানের কিছু অংশ ভেঙে গেছে, অনেক স্থানের কাঠ ও বাঁশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বৃদ্ধরা পারাপার হন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজ না থাকলে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, রোগী পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। জরুরি সময়ে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান অনেকেই।

স্থানীয় ফয়জুল্লাহ মাঝি বলেন, ‘খালটির ওপর প্রথমে একটি সাঁকো ছিল, যাতায়াতে কষ্ট হতো। পরে আমরা স্থানীয়রা মিলে পাঁচ বছর আগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ব্রিজ বানাই। এখন কোনো অসুস্থ রোগী তাৎক্ষণিক আনা-নেওয়া করা যায় না। কোন ধরণের যানবাহনই এখানে চলতে পারে না। সরকারের কাছে স্থায়ী ব্রিজের দাবি করছি।’

ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, ‘আমি বাসিরদোন বাজারের একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কাঠের ব্রিজের ওপর দিয়ে সাইকেল চালানো যায় না। এই খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন সেতু না হওয়ায় আমাদের যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’

হাবিব উল্লা মাঝি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই এলাকার অসুস্থ রোগীদের কাঁধে করে ব্রিজ পার করে তারপর গাড়িতে তুলতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গ্রামীণ সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলায় পূর্বে কার্যক্রম চললেও বর্তমানে বন্ধ আছে। পরবর্তীতে কার্যক্রম চালু হলে এখানে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জনদুর্ভোগ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর