ঠাকুরগাঁয়ের নারীরা চান বৈষম্যহীন সমাজ ও নারীবান্ধব নেতৃত্ব
আবু সালেহ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নারী-পুরুষসহ সব ধরনের বৈষম্য দূর করে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ও নারীবান্ধব নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁয়ের নারীরা। সমান অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনসহ মৌলিক চাহিদাগুলোর বাস্তবায়ন কামনা করে তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন।
তরুণী ভোটার থেকে শুরু করে গৃহিণী, শ্রমজীবী নারী, উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব কাজে সক্রিয়, মানবিক ও নারীবান্ধব নেতৃত্ব।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বৈষম্য এবং ‘প্রতিশ্রুতির রাজনীতি’র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এ অঞ্চলের নারীরা। তারা জানান, অতীতের নির্বাচনে ইচ্ছা থাকলেও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেননি অনেকে। তবে এবারের তুলনামূলক অনুকূল নির্বাচনী পরিবেশের কারণে ভোটদানে আগ্রহী তারা। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা, ভোটের আগে দেওয়া অঙ্গীকার যেন ভোটের পর কাজে রূপ পায়।
-696cabfe42f15.jpg)
ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা ও ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত বলেন, এবার আমার প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট। আগের নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ভোট দিতে পারিনি। এবার পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তাই উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে চাই।’
ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নেহা বলেন, ‘চাই এমন প্রার্থী, যিনি নারী শিক্ষা, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাস্তব কাজ করবেন। অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে, কিন্তু বাস্তবায়ন কম দেখা যায়।’
-696cabf2993c2.jpg)
গৃহিণী ফুলজান বেগম বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। আমরা চাই এমন নেতৃত্ব, যিনি জানমালের নিরাপত্তা দেবেন, গরিবের পাশে দাঁড়াবেন।’
শ্রমজীবী নারী বৃষ্টি আক্তার ও রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘মাঠে একই কাজ করেও নারী ২০০-৩০০ টাকা পাই, পুরুষ পান ৫০০-৬০০ টাকা। এমন সরকার চাই, যারা সমান কাজে সমান মজুরি ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করবে।’
-696cac0da44b7.jpg)
সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শিমলা রায় বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি আসবেন, তিনি নারী উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ নেবেন।’
উদ্যোক্তা উম্মে হানী, মনিষা রাণী ও নাজমুন নাহার বলেন, ‘ব্যবসায় ঋণ পাওয়া কঠিন, সন্ধ্যার পর চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সক্রিয় সরকার চাই।’
-696cabe335baa.jpg)
ঠাকুরগাঁও কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা ও মানবাধিকারকর্মী আফরোজা রিকা বলেন, ‘নারীর অধিকার সার্বজনীন মানবাধিকার। সব ধরনের বৈষম্য দূর করে নারীর প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকবে এমন গণতান্ত্রিক সরকারই আমাদের প্রত্যাশা।’
ঠাকুরগাঁয়ের নারীরা জোর দিয়ে বলছেন, তারা কথার রাজনীতি নয়, বাস্তব কাজ চান। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তাই তাদের কাঙ্ক্ষিত। আসন্ন নির্বাচনে তাদের প্রত্যাশা—এমন নেতৃত্ব, যারা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার শুধু বলায় নয়, কাজে প্রমাণ করবে।
এআরএস

