কক্সবাজারে তীব্র এলপিজি অটোগ্যাস সংকট, অচল ফিলিং স্টেশন
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৬
ছবি : বাংলাদেশের খবর
পর্যটন শহর কক্সবাজারে তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকট। এতে জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শহরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস শেষ’ নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে এলপিজি সংকট চললেও কক্সবাজারের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় সংকটে পড়েছেন এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবহন চালক।
এ সংকট শুধু জেলা শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে শহরের কালুর দোকান এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, গ্যাস না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর নোহা মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও এলপিজিচালিত যানবাহনগুলো নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
বাস টার্মিনাল এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক আমির হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করেই গ্যাস না পাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। শুনেছি আশপাশের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। জানি না কী হবে। কাল আবার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
উখিয়াগামী নোহা মাইক্রোবাস চালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘পাম্পে এসে শুনি গ্যাস নেই। গন্তব্যে মনে হয় আজ রাতে ফেরা হবে না, কাল সকালের ভাড়ার ট্রিপটাও মিস হয়ে যাবে। সরকারের উচিত এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসা।’
এক ফিলিং স্টেশনের কর্মী মোহাম্মদ রানা জানান, ‘আজকেও সকালে এলপিজি কোম্পানির গাড়ি এসেছিল। কিন্তু সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দ্রুত ফুরিয়ে গেছে। দাম না বাড়লেও গ্যাস না থাকায় বিক্রি করতে পারছি না। কাল গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা কোম্পানির গাড়ি আসার ওপর নির্ভর করছে।’
গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অটোগ্যাস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ দুই মাসের পরিসংখ্যানে আমদানি বৃদ্ধি পেলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এআরএস

