Logo

সারাদেশ

সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানে নির্মিত ইমামবাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ

Icon

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪

সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানে নির্মিত ইমামবাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানে নির্মিত সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমামের (রহ.) স্মৃতিবিজড়িত প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো ইমামবাড়ি এখন অযত্ন, দখল ও ধ্বংসের মুখে।

তাড়াশের বারুহাস গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি একসময় ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। আজ এটি জৌলুস হারিয়ে ইট-সুরকির ভগ্নস্তূপ ও লতাপাতার জঞ্জালে ঢেকে গেছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, পঞ্চদশ শতকে ইয়েমেন থেকে সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমাম (রহ.) চলনবিলের বারুহাসে আসেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীর চলনবিল পরগনা পরিদর্শনে এলে তার কাজে মুগ্ধ হয়ে এখানে একটি মসজিদ, কয়েকটি পাকা ঘর ও একটি পুকুর নির্মাণ করে দেন। এছাড়া তাকে ৮০ একর করমুক্ত জমিও দান করা হয়।

কিন্তু আজ সেই ইমামবাড়ির মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। টিকে থাকা একটি ঘরও গাছগাছালিতে ঢাকা পড়েছে। কারুকার্যখচিত দেয়ালগুলো জরাজীর্ণ এবং লতা-গুল্মে আবৃত।

স্থানীয় বাসিন্দা মোকাদ্দেস আলী বলেন, ‘ইমামবাড়ির প্রায় সব স্থাপনাই নিশ্চিহ্ন। সমাধিস্থলের সামনের সাড়ে আট বিঘা পুকুরও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছেন।’

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট জমি উদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এটি কেবল ধর্মীয় স্থান নয়, চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে এই ৫০০ বছরের পুরোনো ইমামবাড়িটি সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর ঐতিহাসিকতা রক্ষা পাবে।

ফিরোজ আল আমিন/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর