ভিডিও বার্তায় নির্যাতনের অভিযোগ করে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’, স্বামী গ্রেপ্তার
আবুল কালাম আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৫
আমেনা বেগম। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও বার্তা। ওই ভিডিওতে নিহত আমেনা বেগম (২৫) দাবি করেছেন, তার শাশুড়ি তাকে বিষ পান করিয়েছেন এবং স্বামী তাকে কোনো কথা বলতে নিষেধ করেছেন। বিষপানের দিনক্ষণ মিলে যাওয়ায় এই দাবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর স্বামী মো. ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আমেনা বেগম তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে বিষপান করেন। তাকে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে ১৭ জানুয়ারি দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে আমেনা একটি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘হেতের মা (শাশুড়ি) আমাকে বিষ খাওয়াইছে… আল্লাহর কসম, আমার স্বামী কেউ জিজ্ঞাসা করলে না বলতে বলছে।’
আমেনার বাবা শফিক আহমদ জানান, বিগত আট মাস ধরে তার মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একটি শালিশি বৈঠকের পর শ্বশুরপক্ষ আর নির্যাতন করবে না বলে অঙ্গীকার করায় আমেনাকে তাদের কাছেই ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু মাত্র কয়েক দিন পরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
‘শালিশের পরও মেয়েটাকে বাঁচানো যায়নি,’ বলতে গিয়ে শফিক আহমদ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর হক বলেন, ‘নিহতের ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
ময়নাতদন্তের রিপোর্টই নির্ধারণ করবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বিষপান নাকি অন্য কোনো বিষয়।
এই ঘটনায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় তীব্র শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আমেনার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, বৈবাহিক জীবনে নারীর নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে, এবং এর কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
এআরএস

