Logo

সারাদেশ

টানা ১৪ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে হিমশীতল পঞ্চগড়

Icon

এসকে দোয়েল, পঞ্চগড়

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৪

টানা ১৪ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে হিমশীতল পঞ্চগড়

ছবি : বাংলাদেশের খবর

টানা ১৪ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে উত্তরের হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়। মাঘ মাসে জেঁকে বসা তীব্র শীতে কাঁপছে এ জনপদের মানুষ। দিনের বেলা কিছুটা রোদের উষ্ণতা পাওয়া গেলেও সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে অস্বস্তিতে রয়েছেন সীমান্ত জনপদের অধিবাসীরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ভোর ৬টায়ও একই ছিল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং ৬ জানুয়ারি থেকে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে উত্তরের এ জেলায়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও সকালের রোদের মধ্যে উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে না। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হিমেল বাতাসে আর্দ্রতা প্রায় শতভাগ থাকছে। ফলে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত প্রকট শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষভাবে বিপাকে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছেন দিনমজুর ও কৃষিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

একাধিক গৃহিণী জানান, রাতভর বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শুনেছেন। প্রচণ্ড শীতে বিছানাপত্র বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ঘরের আসবাব থেকে মেঝে পর্যন্ত ঠাণ্ডায় জমে থাকে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের শীতের কষ্ট বেশি হচ্ছে। গৃহস্থালি কাজ করতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে অনেকের।

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ। প্রতিদিনই এসব শীতজনিত রোগ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় করছেন রোগীরা, যাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করাই বেশি। চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি গরম কাপড় পরা ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, উত্তরের এ জেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। তবে দিনের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে। দিনভর রোদ থাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে শৈত্যপ্রবাহের এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আবহাওয়া জনদুর্ভোগ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর