Logo

সারাদেশ

নীলফামারীতে সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতশত একর ফসলি জমি প্লাবিত

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১০

নীলফামারীতে সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতশত একর ফসলি জমি প্লাবিত

ছবি : বাংলাদেশের খবর

নীলফামারীতে দিনাজপুর সেচ ক্যানেলের বাম তীরের বাঁধ ভেঙে শতশত একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জেলার সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায় ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে যায়।

এতে অন্তত ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁধ বিধ্বস্ত হয়। ভাঙনের পানি সংলগ্ন শতাধিক একর জমির সরিষা, বোরোর বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও রবি শস্য পানিতে তলিয়ে যায়।

ক্যানেল সংলগ্ন এলাকার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে গত ১৫ জানুয়ারি পানি দেওয়া শুরু হয়। সেই পানিতে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারের কৃষকরা বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে চারা রোপণ করেছেন। এমন সময় সোমবার বেলায় ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে তার জমিসহ পাশের শতাধিক একর জমিতে পানির স্রোত বয়ে যায়।

একই এলাকার কৃষক শরিফ ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেন। এ সময় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান কৃষকদের সমালোচনার মুখে পড়েন।

সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে আছে। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলাম।’

এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, ‘ধারণা করা হয়, ওই স্থানে ইঁদুরের গর্ত ছিল। নতুন করে ক্যানেলে পানি ছাড়ায় ইঁদুরের গর্তের কারণেই বাঁধের প্রায় ২০ ফুট অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। সেচ নির্ভর বোরো আবাদ শুরু হয়েছে বলে আমরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করে সেচ কার্যক্রম আবার চালু করতে পারব। তবে দিনাজপুর ক্যানেলের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিস্তা সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ থেকে চলতি খরিপ-১ বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ১৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) লক্ষ্য এ মৌসুমে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর ও দিনাজপুর জেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। সূত্রমতে, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে এ কমান্ড এলাকায় কৃষকরা মে মাস পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস সেচ সুবিধা পাবেন।

তৈয়ব আলী সরকার/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বন্যা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর