কুমারখালীতে ৩ বছরে ১২২ ট্রান্সফরমার চুরি, ক্ষতি ৮৪ লাখ টাকা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে গত তিন বছরে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ১২২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৮৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চুরির শিকার ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে আলাউদ্দিননগর, যদুবয়রা, বাঁশগ্রাম, কসবা, চাঁদপুর ও শিলাইদহ। ট্রান্সফরমার চুরির ফলে এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
এ সমস্যার কারণে কৃষকদের সেচ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। এমনকি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশাও চার্জ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকটে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার জীবনযাপনও বিপর্যস্ত। সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছে। এতে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এ নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা হচ্ছে। চার্জ দিতে হলে দূরের কোনো জায়গায় যেতে হয়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’
কৃষক হালিম বলেন, ‘মাঠে সন্ধ্যার পর কেউ থাকে না। চোরেরা সেই সুযোগে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমার ও তার খুলে নিয়ে যায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছি।’
অটোরিকশা চালক জালাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যাটারি চার্জ করতে পারি না। এতে অটোরিকশা ঠিকমতো চালাতে পারি না, আয় কমে যাচ্ছে।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানালে কর্তৃপক্ষ গ্রামে নতুন করে ট্রান্সফরমার সংযোগ দিতে বলছেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুইজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরির সরঞ্জাম ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালকরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। শীঘ্রই বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
আকরামুজ্জামান আরিফ/এআরএস/

