গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে : সাবেক এমপি সিরাজ
আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর (বগুড়া)
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বগুড়ার শেরপুরে এক আলোচনা সভায় গত দেড় যুগে শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতির জন্য ‘ফ্যাসিস্ট সরকারকে’ দায়ী করেছেন বগুড়া-৫ ও ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ।
তিনি বলেন, ‘২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান এখন তলানিতে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে শেরপুর শহরে ‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, তিনি শুধু ভোটের জন্য সেখানে উপস্থিত হননি। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ভোটের জন্য এখানে আসিনি। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিবর্তন এবং তারুণ্যের চাওয়া পূরণ করাই আমার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আগে নৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী ‘ইসলামী ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন, যেখানে ইসলামের প্রকৃত নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ স্লোগানের এ সভায় স্থানীয় জনগণ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
নারী শিক্ষা নিয়ে নুসরাত জাহান রিতা বলেন, ‘এই এলাকায় নারীদের জন্য কোনো সরকারি কলেজ নেই। নারী শিক্ষা প্রসারে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
প্রবীণ নাগরিক নূর মোহাম্মদ ধুনট এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দাবি তোলেন।
কৃষক শামিন হোসেন কৃষি ক্ষেত্রে সংকটের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা লোকসান দিয়ে ফসল বিক্রি করছি। বাজারমূল্যের সঙ্গে আমাদের উৎপাদন খরচের আকাশ-পাতাল তফাত আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
খেলোয়াড় রুমন আলী বলেন, ‘শেরপুরে একটি আধুনিক খেলার মাঠের অভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অকালে ঝরে পড়ছে।’
তৃণমূল জনপ্রতিনিধি শাহ আলম পান্না আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি প্রাণ কুমার সিং তাদের সম্প্রদায়ের জন্য স্থায়ী বসতবাড়ির দাবি জানান।
ডা. আসিফ ইকবাল সনি বলেন, ‘ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।’
সভার উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ কমিটির আহ্বায়ক আসিফ সিরাজ রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরডিএ বগুড়ার পরিচালক ড. আব্দুল মজিদ, করপোরেট ব্যক্তিত্ব মেহবুব চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেরপুর-ধুনটকে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এসব দাবি নীতিনির্ধারণী স্তরে পৌঁছে দিতে জোর দেন।
এআরএস

