'পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো হাসিনার আমলের আইন ও নীতিতেই চলছে'
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার দাবি, এখনো সেখানকার প্রশাসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের আইন ও নীতিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
কাজী মজিবুর রহমান বলেন, ‘দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এখানকার প্রশাসন এখনো একতরফা চুক্তি ও বিশেষ আইনের বেড়াজালে বন্দি। পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা চরম হুমকিতে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার অজুহাতে আগে প্রত্যাহার করা একটি পূর্ণ ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন না করায় পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা বেড়ে চলেছে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।
এ সময় তিনি বান্দরবান বাজারফান্ডভুক্ত জমির লিজের মেয়াদ ৯৯ বছর নির্ধারণ, ব্যাংক ঋণ চালু, এলআর ফান্ড সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেশের অন্য ৬১ জেলার মতো স্বাভাবিক ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু এবং রাজার সনদ বাতিলের দাবি জানান।
কাজী মজিবুর রহমান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রেখে বিশেষ ব্যবস্থাপনার নামে এখানকার মানুষকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি আর চলতে দেওয়া যায় না।’
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শান্তিচুক্তির নামে পাহাড়ে একশ্রেণির গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাধারণ বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ বঞ্চিত হয়েছে। তারা এই চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও জনস্বার্থবিরোধী ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অচিরাতেই এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে নাগরিক পরিষদের নেতা-কর্মী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
এআরএস

