Logo

সারাদেশ

গণভোটে ‘না’ মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো : উপদেষ্টা শারমিন

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৬

গণভোটে ‘না’ মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো : উপদেষ্টা শারমিন

ছবি : বাংলাদেশের খবর

অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেছেন, গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো। নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানে উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ বলেন, ‘গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া মানে ’৯৬-এর গণ-অভ্যুত্থান ও হাদির বিরুদ্ধে যাওয়া। নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। কারণ গণভোটে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গণভোট খুবই স্পষ্ট একটি বিষয়। এটা কোনো নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেওয়ার মতো ভোট নয়। আমার স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে ‘হ্যাঁ’। কারণ আমি যদি সংস্কার চাই, আমার হাতে গণভোট ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ২০২৪ সালে যা ঘটেছে, সেটার মূল চাওয়া ছিল নতুন বাংলাদেশ, নতুন মূল্যবোধ এবং আরও মানবিক, আরও ন্যায্য একটি সমাজ। বিগত ইতিহাস যা দেখিয়েছে, তা অর্জন করতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দেড় বছরের একটি সরকার দেশে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে সরকারের নিরপেক্ষতার জায়গা নেই। হয় আমি গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, এই ছেলে-মেয়েদের পক্ষে, জুলাইয়ের শহিদদের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে, না হয় আমি হাদি ও স্বৈরাচারের পক্ষে। আমার দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের উপকারভোগী। তারা গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে। তারা মূলত পরিবর্তন চায় না, নতুন বাংলাদেশ চায় না।’

শারমিন মুরশিদ বলেন, ‘এই গণভোটের মাধ্যমে আপামর জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সংস্কারের দ্বার খুলে যাবে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তাই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা গণভোটের পক্ষে, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। আমরা চাই মানুষ বুঝুক গণভোট কেন তাদের জন্য দরকারি। বুঝেশুনে তারা ‘হ্যাঁ’-এর কাছেই আসুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু গোষ্ঠী গণভোটের বিষয়টা বুঝে উঠতে পারে না। সংস্কার যদি চাই, রাতের অন্ধকারের ভোট যদি না চাই, একনায়ক যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থেকে স্বৈরাচার সৃষ্টি হবে—সেটা যদি বন্ধ করতে চাই, গুম-খুন বন্ধ করতে চাই, তাহলে অবকাঠামো বিপুলভাবে পরিবর্তন করতে হবে। গণভোটের জন্য দরকার জনমানুষের সম্মতি। জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্যই গণভোট করছি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোট রাষ্ট্রের নয়, গণভোট মানুষের। আপনারা রাষ্ট্রের ওপর ভরসা করবেন না। পুরোনো আইন পরিবর্তনে আমরা মানুষের সম্মতি চাই। তাই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ‘না’ বলার কোনো সুযোগ নেই। বন্ধ দরজা খুলতে ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরে যেতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’

এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও নির্বাচনে জনমত গঠন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এম বুরহান উদ্দীন/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গণভোট

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর