অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে মেহেরপুর হাসপাতাল গেটে যানজট, জরুরি সেবায় বাধা
আকতারুজ্জামান, মেহেরপুর
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬
ছবি : বাংলাদেশের খবর
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটক ও আশপাশের রাস্তা জুড়ে অটোরিকশার অবৈধ অবস্থান ও দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এতে জরুরি সেবা প্রাপ্তিতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। অটোর ভিড়ে হাসপাতালে প্রবেশ-প্রস্থান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে।
হাসপাতাল চত্বর ও প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় ১৫ থেকে ২০টি অটোরিকশা অবৈধভাবে পার্কিং ও যাত্রী সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকে। এতে জরুরি বিভাগে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যেতে কিংবা সাধারণ রোগীদের ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাতে স্বজনদের অতিরিক্ত কষ্ট পোহাতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ ও তার আশেপাশের রাস্তা অটোরিকশায় অবরুদ্ধ। চালকরা যাত্রী ডাকছেন। কোনো রোগী বা স্বজন এ নিয়ে আপত্তি করলে বা গাড়ি সরাতে বললে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চালকরা স্থানীয় রাজনৈতিক দলের দাপট দেখিয়ে এ কাজ করছেন।
শোলমারী গ্রামের আশাদুল ইসলাম বলেন, ‘অটোরিকশার ভিড়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছিলাম না।’
উত্তরশালিকা গ্রামের জোসনা খাতুন জানান, ‘বৃদ্ধ মাকে ট্রলিতে তুলতে অটোর ভিড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।’
সুভরাজপুরের মুন্তাজ আলী, ঢেপার বশিরুদ্দিন, রামদাসপুরের ফুলচাঁদ মিয়া, কুলবাড়িয়ার জরিনা খাতুন ও গাড়াবাড়িয়ার চামেলী খাতুন একই রকম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা হাসপাতাল চত্বর ও সামনের রাস্তা থেকে সকল প্রকার মানুষবাহী যানবাহন অপসারণ এবং সেখানে যানজট নিরসনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন।
জেলার প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। স্থানীয়রা মনে করেন, হাসপাতালের সামনের এলাকা অটোরিকশামুক্ত করে জরুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবীর বলেন, ‘সেবা প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনে হাসপাতালের সামনে থেকে অটোরিকশা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এআরএস

