নওগাঁয় প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন, আজ থেকেই প্রচারণায় নামছেন প্রার্থীরা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩২ প্রার্থীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রার্থীদের হাতে সংশ্লিষ্ট প্রতীক তুলে দেন।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বুধবার থেকেই জেলা জুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা হয়েছে। প্রার্থীরা এখন থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করতে পারবেন।
নওগাঁ-১ (সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর) : মোস্তাফিজুর রহমান (বিএনপি) – ধানের শীষ; কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস (এনসিপি) – মাছ।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা, ধামইরহাট) : সামসুজ্জোহা খান (বিএনপি) – ধানের শীষ; এনামুল হক (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা; মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি) – ঈগল।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর, বদলগাছি) : ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি) – ধানের শীষ; খবিরুল ইসলাম (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) : একরামুল বারী টিপু (বিএনপি) – ধানের শীষ।
নওগাঁ-৫ (সদর) : জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি) – ধানের শীষ; আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা; আনোয়ার হোসেন (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই, রানীনগর) : শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি) – ধানের শীষ।
জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধিত প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক পেয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। প্রচারণা আইনানুগ হতে হবে। মাঠ পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।” তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতীক প্রাপ্তির পর অধিকাংশ প্রার্থী সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান নির্বাচনী সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
নওগাঁ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘আমরা চাই, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা—সকলের জন্য সমান পরিবেশ বজায় রাখা।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাহীন পরিবেশ কামনা করেছেন।
নওগাঁর ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছয় আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহর-গ্রামে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক এই নির্বাচনে ভোটাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মাইকিং, পোস্টারিং ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটার সমর্থন আদায়ে তৎপর হয়েছেন।
আব্দুর রাজ্জাক/এআরএস

