বগুড়ার ৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৪ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক পেয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে বগুড়ার নির্বাচনী মাঠ পুরোপুরি উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তার পক্ষে প্রতীক গ্রহণ করেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রেকর্ড পরিমাণ ভোটে তারা তাদের নেতাকে বিজয়ী করবেন।
এদিকে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন ঘিরে কয়েক দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তারও অবসান হয়েছে। এই আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও নাগরিক ঐক্য উভয় দলের প্রার্থীই নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না পেয়েছেন কেটলি প্রতীক। অপরদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম বরাদ্দ পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। একই আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু পেয়েছেন সিঁড়ি প্রতীক।
এর আগে মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপি প্রথমে তাকে সমর্থন দিলেও পরে নিজেদের প্রার্থী দেয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে এখন এই আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বগুড়ার সাতটি আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বগুড়া বিএনপির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সেই দুর্গে ভাগ বসাতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। সাতটি আসনেই তারা শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ায় নির্বাচন আচরণবিধি নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
জুয়েল হাসান/এআরএস

