নিয়োগ পরীক্ষায় ‘জাদু’, অনুপস্থিত রোল নম্বরও উত্তীর্ণের তালিকায়
মেহেদী হাসান, জামালপুর
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৮
জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গতকাল ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে পরীক্ষা বাতিলের দাবি তোলা হচ্ছে।
ফল প্রকাশের পর ফেসবুকে ‘নাদিরা তাবাসসুম’ নামে এক ফেসবুক আইডি থেকে একটি অভিযোগমূলক স্ট্যাটাস ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘এই রোল নম্বরের ব্যক্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। আমার আগেই সিট ছিল। কীভাবে পাস করল?’
মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে দেওয়া এক বক্তব্যে নাদিরা তাবাসসুম জানান, তিনি জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। তার রোল নম্বর ছিল ২১১৪১০৭। তবে তার সামনের সিটে নির্ধারিত রোল নম্বর ২১১৪১০৬-এর পরীক্ষার্থী পরীক্ষার দিন অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজ চোখে দেখেছেন, ওই সিটে কেউ বসেননি এবং সেখানে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নেননি।
নাদিরা তাবাসসুমের অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ওই রোল নম্বরের কেউ উপস্থিত না থাকলেও ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ওই অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায়ই অংশ নেয়নি, সে কীভাবে পাস করল, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করছে, পরিকল্পিতভাবে কিছু নির্দিষ্ট রোল নম্বরকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত আশেক মাহমুদ কলেজে ডিভাইসসহ এক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা অনিয়মের অভিযোগকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন পরীক্ষার্থীরা।
অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়েও তারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অথচ অনুপস্থিত বা সন্দেহজনক রোল নম্বরধারীরা ফলাফলে জায়গা পেয়েছেন, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জামালপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, ‘বিষয়টি আমাদের নয়। নিয়োগ তো আমরা করি না। আপনি নিয়োগ শাখায় কথা বলেন।’
এ ব্যাপারে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর জানান, পরীক্ষার দিন কে একাডেমিক ভবনে দায়িত্বে ছিলেন তা তিনি জানেন না। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবকিছু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় এমন অভিযোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
এআরএস

