নাটোরে বিএনপি নেতা হত্যার জের : আ.লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগে বৃদ্ধার মৃত্যু
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৯
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
নাটোরের সিংড়ায় একই রাতে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে দুর্বৃত্তদের হামলায় বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম (৫৩) নিহত হন। পরে এ হত্যার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ একটি গোষ্ঠীর অগ্নিসংযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতার বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগম (৭৫) পুড়ে মারা যান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিহত রেজাউল করিম স্থানীয় বাসিন্দা ছাবেদ আলীর ছেলে এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপি জিয়া পরিষদের সদস্য ও নাটোর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সক্রিয় সমর্থক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রেজাউল করিম রাতের খাবারের পর বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় তাকে একা পেয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। প্রতিবেশীদের চিৎকারে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ একদল মানুষ প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আগুনে পুড়ে ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়।
নিহত রেজাউল করিমের ছেলে রায়হান করিম বলেন, ‘বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক।’ রেজাউল করিমের স্ত্রী জানান, তার স্বামীর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, ‘প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব ও স্থানীয় সন্ত্রাসী আব্দুল করিম সম্প্রতি একাধিক বৈঠক করছিলেন। তারাই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।’
অন্যদিকে অগ্নিসংযোগে নিহত ছাবিহা বেগমের মেয়ে ও পুত্রবধূ জানান, হামলার সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারলেও বৃদ্ধা মা বের হতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক রাতে দুই মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএসএম আব্দুন নূর বলেন, ‘গলা কেটে একজনের হত্যা ও অগ্নিসংযোগে অন্যজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাজমুল হাসান/এআরএস

