রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বড় ‘বোমা’ উদ্ধার
রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১
কক্সবাজারের রামুর প্রত্যন্ত গ্রামে সন্ধান মিলেছে বোমা সদৃশ বস্তুর। তবে এই বস্তুর ওপর গত ১০ বছর ধরে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজ চালাচ্ছিলেন। ছবি : বাংলাদেশের খবর
কক্সবাজারের রামুর প্রত্যন্ত গ্রামে সন্ধান মিলেছে বোমা সদৃশ বস্তুর। তবে এ বস্তুর ওপর গত ১০ বছর ধরে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজ চালাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় বোমাটি পাওয়া গেছে। এটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত একটি বোমা, যা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বড় বোমা পাওয়া গেছে। মূলত বোমাটি একটি পুকুরে ছিল। যা ১০ বছর আগে স্থানীয় কেউ পুকুর থেকে তুলে পাড়ে রেখেছিলেন। এ বোমার ওপর গত ১০ বছর ধরে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজও করেছেন।
মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বোমার বিষয়টি পুলিশকে জানালে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এরপর বোমাটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। চারপাশ সংরক্ষিত ও নজরদারিতে রাখা হয়। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ বস্তুটির দুটি ছবি শেয়ার করেন। ওই বস্তুটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘২য় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমার ওপর নাকি অনেকদিন যাবত মানুষ কাপড়কাচার কাজ করত। এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এটাও তো রামুর ইতিহাসের অংশ।’
ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া জানান, বোমা সদৃশ বস্তুটির বিষয় তিনি অনেক আগে থেকেই জানতেন। নিজের আগ্রহ থেকে বৃহস্পতিবার তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তার ধারণা, এটি হয়তো জাপানের তৈরি। বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতো তিনিও এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা মনে করেন। বোমাটির আকার প্রস্ত গ্যাসের সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্য আরও বেশি।
কামাল শিশির/এমবি

