Logo

সারাদেশ

পোস্টারবিহীন নির্বাচন : নেই চিরচেনা জৌলুস

Icon

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৪

পোস্টারবিহীন নির্বাচন : নেই চিরচেনা জৌলুস

ছবি : বাংলাদেশের খবর

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ‘পোস্টারবিহীন’ প্রচারণার নতুন নিয়ম। ফলে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনের আলফাডাঙ্গায় নির্বাচনের চিরচেনা জৌলুস ও উৎসবমুখর পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও প্রচার সামগ্রীর অভাবে অনেক সাধারণ ভোটার এখনো সব প্রার্থীর নাম ও প্রতীক চিনে উঠতে পারেননি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রচারণার চতুর্থ দিনে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা ঘুরে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

নির্বাচনী নতুন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীরা কাগজের পোস্টারের বদলে সীমিত আকারে পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া একটি সংসদীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি নির্দিষ্ট মাপের (১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থ) বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও তার দৃশ্যমান ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়নি।

সরেজমিনে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার, জাটিগ্রাম, মহিষারঘোপ, ধলাইরচর, হেলেঞ্চা ও বেড়িরহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এই আসনে প্রার্থী ৯ জন হলেও অধিকাংশ প্রার্থীর পক্ষে এখনো ব্যানার বা ফেস্টুন লাগানো হয়নি। তবে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্যার (দাঁড়িপাল্লা) পক্ষে ভোট চেয়ে লাগানো কিছু ব্যানার চোখে পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াত প্রার্থীর ব্যানারের সংখ্যাই ছিল বেশি।

এছাড়া জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন ও ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের কয়েকটি ব্যানার দেখা গেছে। এই চার প্রার্থীর বাইরে অন্য পাঁচ প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প বা প্রচারণার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংয়ের বিধান থাকলেও বিএনপি, জামায়াত ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য কারো প্রচার মাইক এখনো শোনেননি এলাকাবাসী।

পোস্টারবিহীন এই আধুনিক নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের চা দোকানি মকবুল গাজী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে নির্বাচনের সময় চারদিকে পোস্টার ঝুলে থাকত, অন্যরকম আনন্দ হতো। এবার পোস্টার নেই বলে নির্বাচন মনেই হচ্ছে না। প্রার্থী চেনা তো দূরের কথা, ভোট যে খুব কাছে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।’

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন চাকরিজীবী আলামিন হোসেন। তিনি বলেন, ‘পোস্টার না থাকায় শুরুতে প্রার্থী চিনতে অসুবিধা হচ্ছে ঠিকই, তবে পরিবেশ রক্ষা এবং নির্বাচনের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই।’

পরিবেশবান্ধব ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনের এই নতুন সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মিয়া রাকিবুল/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর