Logo

সারাদেশ

কেউ ঝগড়া করতে এলে ছেড়ে দেওয়া হবে না : জামায়াত আমির

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১০

কেউ ঝগড়া করতে এলে ছেড়ে দেওয়া হবে না : জামায়াত আমির

মঙ্গলবার বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান/ সংগৃহীত

আমরা কারও পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধাতে চাই না—এমন মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কিন্তু কেউ ঝগড়া বাধাতে আসলে ছেড়েও দেওয়া হবে না।’

বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা একেবারে স্পষ্ট। জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত দেব না। কেউ আর এই অপকর্ম করবেন না। কেউ সেই কালো হাত সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করলে আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে পারবো না। পায়ে পাড়া দিয়ে মুখের ওপর, ঠোঁটের ওপর ঘুষি মারবেন, আর বলবো এবার কানটাও ছেড়েন—এতে কাজ হবে না। বরং সমান ওজনের হিসাব-নিকাশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াত এই জনসভার আয়োজন করে।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের একটি বন্ধু সংগঠন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা এটাও বলেছে, এটা মায়েদের হাতে দেবে। তারা একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, আরেকদিকে আমার মায়ের গায়ে হাত দিচ্ছে—এই দুইটা একসঙ্গে চলে না। আমরা অনুরোধ করবো, নিজের মাকে সম্মান করুন।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে, মাথা গরম হয়ে গেছে। এখন মাঘ মাসে মাথা গরম হলে চৈত্র মাসে কী করবেন? জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে যারা জনগণের রায়কে সম্মান করেনি, তাদের পরিণতি থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। জনগণের গায়ে হাত দিতে পারবেন, পিঠে চাবুক মারতে পারবেন, কিন্তু জনগণের হৃদয় ও কলিজা জয় করতে পারবেন না।’

অনেকে আবার পুরোনো ফ্যাসিবাদের এপ্রোন গায়ে দিতে চায়—এমন মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, যুব সমাজ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ওই বস্তাপচা পুরোনো বন্দোবস্ত চায় না। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীরা রায় দিয়ে বলেছে, তারা ইনসাফের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। তারা ঐক্যের পক্ষে, বিভক্তির পক্ষে নয়।

নারীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যদি তাদের দেশ গড়ার সুযোগ দেন, তবে নতুন বাংলাদেশে নিজ গৃহ, আবাসস্থলে চলাচলের সময় ও কর্মক্ষেত্রে সব সময় দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—একটি মায়ের মর্যাদা, অন্যটি নিরাপত্তা।

জামায়াতের মন্ত্রী ও সাংসদরা জনগণের সম্পদের দিকে চোখ তুলে তাকাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের প্রতিটি সম্পদ ও বাজেটের অর্থের জবাবদিহির অধিকার নিশ্চিত করা হবে। নিজেদের জন্য বেগমপাড়া বা সিঙ্গাপুর বানানো হবে না। বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত তৈরি করতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে খুলনার শিল্পকারখানা বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চান না। বরং তাঁদের হাতে কাজ তুলে দিতে চান। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুব সমাজকে সম্মানিত করতে চান এবং জুলাই বিপ্লবে তাঁদের অবদানের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে চান।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান।

সমাবেশের শেষে খুলনার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর