Logo

সারাদেশ

বগুড়া–২ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধার অভিযোগ মাহমুদুর রহমান মান্নার

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:১৮

বগুড়া–২ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধার অভিযোগ মাহমুদুর রহমান মান্নার

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন, বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের কর্মী-সমর্থকেরা তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছেন।

মঙ্গলবার রাতে বগুড়া প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান এসব অভিযোগ করেন। তবে বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বগুড়া-২ আসন থেকে আমি যাতে নির্বাচন করতে না পারি, সেই জন্য শুরু থেকেই কতগুলো ইস্যু তৈরি করা হয়েছিল। আমি কখনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। আমার একটি ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসায় লোন নিয়েছিলাম। ব্যবসা করতে না পারায় ১০–১৫ বছর ধরে ঠিকমতো এলাকায় যেতে পারিনি। দুই বছর জেলে থাকার পরও ব্যবসাটি চালাতে যিনি দায়িত্ব নেন, তারা তা ঠিকমতো করতে পারেননি। ফলে বড় ঋণ হয়ে গেছে। জুলাই আন্দোলনের পর আমি নিজে ব্যবসায়ী না হয়েও দায়িত্ব নিয়ে এক বছরে দুই কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রি–শিডিউল বৈঠকের সময় স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চিঠি আসে, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে না করলে মামলা হবে। তখনই বুঝতে পারলাম, এটি একটি চক্রান্ত। পরে ব্যাংকের স্থানীয় শাখার ব্যবস্থাপককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় এবং ঋণ রি-শিডিউল হয়, কিন্তু চিঠি দেওয়া হচ্ছিল না। ফলে আদালতে যেতে হয়েছে, এতে সময় লেগেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী তারা আমাকে বগুড়া-২ আসন থেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আদালতে সময় লাগার ফাঁকে যিনি আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে চেয়েছেন, তারা এখানে ডামি প্রার্থী দিয়ে রেখেছেন। মাসখানেক আগে এলাম এবং দেখলাম এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে আমার পক্ষে কাজ করবেন এমনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। ভোটার, কৃষক, গৃহবধূ ও ইউনিয়নের নেতাদের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে।’

মাহমুদুর রহমান জানান, ‘নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠনের সদস্যদের সোমবার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ও দেউলিতে কেটলির প্রচার চালাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হ্যান্ডমাইকে প্রচারে নামলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছে। থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। ১২ তারিখের পর ব্যবসা করা সম্ভব হবে না বলে ধমক দেওয়া হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করব। চাইছি, পরিস্থিতি পরিবর্তিত হোক, যাতে সুষ্ঠু ভোট হয়। সেই ভোটে যারা জিতবে, জিতুক। মানুষ মনে করছে, ভোটের দিন অনেক কিছুই হয়তো ওলট–পালট হয়ে যেতে পারে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘এখনো নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়নি, প্রয়োজনে করব। ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি এলাকায় থাকেন না। প্রচারণা শুরুর চার দিন পর মাঠে এসেছেন। ভোটারের সাড়া না পেয়ে রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ধানের শীষের কেউ কেটলি সমর্থকদের ভয় দেখাননি বা প্রচারে বাধা দেননি। প্রমাণ থাকলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি।'

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিএনপি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর