খিলক্ষেতে এনসিপি প্রার্থী আদিবের ওপর হামলা : অভিযুক্ত দিদার মোল্লাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৯
অভিযুক্ত দিদার আহমেদ মোল্লা
নতুন বাংলাদেশে মতের ভিন্নতা মানেই সংঘাত নয় এই কঠোর বার্তা দিয়ে রাজধানীর খিলক্ষেতে নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িত নিজ দলীয় নেতার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি।
গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার খিলক্ষেত ডুমনীর নূরপাড়া মাদ্রাসায় এনসিপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপর অতর্কিত ও রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার আহমেদ মোল্লাকে দল থেকে তার সকল পদ বাতিল করে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের নির্দেশে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ বাতিল করে এই চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খিলক্ষেত ডুমনীর নূরপাড়া মাদ্রাসা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এনসিপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিব একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কোনো উস্কানি ছাড়াই আদিব ও তার সফরসঙ্গীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলায় আদিবসহ জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। এই পৈশাচিক হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি জানার পরপরই কড়া অবস্থান নেন ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর। তিনি ভুক্তভোগী প্রার্থী আদিবকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, দোষী ব্যক্তি যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আজ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দিদার মোল্লার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযুক্ত দিদার মোল্লার বিরুদ্ধে অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে খিলক্ষেত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন এই তথাকথিত নেতা। সোমবারের এই বর্বরোচিত হামলা ছিল তার দীর্ঘদিনের অপকর্মের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, 'প্রতিপক্ষ বা অন্য কারও উস্কানিতে প্ররোচিত হয়ে কোনো ধরনের বিবাদ বা সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জন্য বিএনপিতে কোনো স্থান নেই' দিদার মোল্লার বহিষ্কারের মাধ্যমে সেই কঠোর বার্তাই তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হলো।
এএস/

