ভাঙ্গায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৭
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘারুয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমানের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়া নিয়ে চুমুরদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ইসরাফিল মোল্লা ও একই পদের আরেক প্রার্থী শাহাবুদ্দিন মোল্লার ভাই শহিদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে বাবলাতলা এলাকায় হামিদা বেগম উচ্চস্বরে ডেকসেট বাজাতে থাকলে প্রতিবেশী লাবলু মোল্লা এতে বাধা দেন। এ নিয়ে শাহাবুদ্দিন মোল্লার গ্রুপের শুকুর আলী ও ইয়াদালী মোল্লার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাল, সরকি, টেটা ও ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত জাহিদ মোল্লা, লাবলু মোল্লা, হামিদা বেগম, শুকুর আলী মোল্লা ও ইয়াদালী মোল্লাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা জানান, বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ইসরাফিল মোল্লা ও শাহাবুদ্দিন মোল্লার মধ্যে নেতৃত্ব ও বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। মঙ্গলবারের ঘটনার জের ধরে বুধবার আবার সংঘর্ষ হয়। বিষয়টির সমাধানে বিকেলে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইমরান মুন্সী/এসএসক /

