ফেনীতে শিশু নাশিত হত্যার ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৩
ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিপাত।
নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
আদালতের পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ জানান, আশ্রাফ ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মোবারক ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। আর রিপাত লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার কামালপুর এলাকার দুদু মিয়া বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ না পেয়ে একপর্যায়ে নাশিতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ রেললাইনের পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য স্কুলব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ ডিসেম্বর নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তী সময়ে একটি নম্বর থেকে টানা ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হলে তিনি পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরের বিষয়ে সন্দেহের কথা জানান। পুলিশ তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিলে তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে স্কুলব্যাগসহ নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এম. এমরান পাটোয়ারী/এমবি

