শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
নিহত জামায়াত নেতার স্ত্রীর মামলায় আসামি ৭৩৪
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪০) নিহতের ঘটনায় ৭৩৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া (৩৪) বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় হত্যার মামলা করেন।
এ মামলায় ২৩৪ জনকে নামসহ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। তবে তিনি মামলার আসামিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শেরপুর জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শহরের মাইসাহেবা মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ডিসি গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে জামায়াত নেতারা বলেন, শহীদ রেজাউলের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। এ বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তারা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন। তারা রেজাউলের মতো রক্ত দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে তারা বলেন, রেজাউল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। আগামী কর্মসূচিতে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেরপুর ছাড়তে হবে।
সমাবেশে ৩১ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। পরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই দিন রাতেই তিনি মারা যান।
শাহরিয়ার শাকির/এআরএস

