চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫২
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ শেষে ফেরার পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতিসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে ফেরার পর দুপুরে হাটবাইর এলাকায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জামায়াতের দাবি, সমাবেশ থেকে ফেরার পথেই বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। আর বিএনপি দাবি করছে, সমাবেশ থেকে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে হামলা করে। এর সূত্র ধরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী ও তার গাড়িচালক মামুন আহত হন।
একই সঙ্গে জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও মিলন আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
আহত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতারা সমাবেশ করে ফেরার পথে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে এলে জামায়াত-শিবির পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি ও তার গাড়িচালক আহত হন।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘জামায়াত আমিরের সমাবেশ শেষে আমাদের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় আমাদের তিন সমর্থক আহত হন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহআলম রাজু জানান, জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের হাটবাইরে জামাতের সন্ত্রাসী হামলায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মামুন, নাজমা বেগম, নার্গিসসহ বিএনপি দলীয় কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক ছানা উল্লাহ বলেন, হাটবাইর এলাকায় সংঘর্ষের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ/এসএসকে/

