Logo

সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনে জমজমাট লড়াই, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৭ প্রার্থী

Icon

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৫

নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনে জমজমাট লড়াই, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৭ প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত

তুমুল প্রচারণা, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ, প্রশাসনের সতর্কতার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে জমে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৩২ জন ভোটার। মোট ভোটকেন্দ্র ৭৯৭টি। এর মধ্যে বড় ভূমিকা পালন করবে তরুণ ভোটাররা। পাঁচটি আসনে এবার নির্বাচনে লড়ছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দিপু ভূইয়া কিছুটা নির্ভার। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঙুরের কাছে বিএনপির আজাদ শেষ মুহূর্তে দাঁড়াতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস সবাইকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তিনজন বিএনপি নেতাই লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। বিএনপির ছাড় দেওয়া প্রার্থী কাসেমীর অবস্থান টালমাটাল। যতই দিন যাচ্ছে, মোহাম্মদ আলী ও শাহ আলমের অবস্থান ভালো হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ঘূর্ণিঝড় তুলেছে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের সিরাজুল মামুন ও ফুটবলের মাকসুদ হোসেন। মাঝে পড়ে চাপে আছেন আবুল কালাম।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন জামায়াত ছেড়ে দিয়েছে। দুটি আসনে তাদের নিজস্ব প্রার্থী মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের অবস্থান খুব একটা স্পষ্ট নয়। যদিও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াত সম্পর্কে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। খেলাফত মজলিস এবার জোরালোভাবে তাদের অবস্থান জানান দিতে পেরেছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেছেন, ‘এই নির্বাচন একটা ইতিহাস; এটি আগামী ১০০ বছরের গতি নির্ধারণ করে দেবে। এই ইতিহাসে আপনার হিরো আবার ভিলেন হওয়ার সুযোগও আছে। আইন মেনে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যদি নির্বাচন করেন, তাহলে ইতিহাসে হিরো হয়ে থাকবেন। আর যদি কোনো ভুল করেন অথবা নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে ভিলেন হবেন।’ ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রার্থীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, জাল ভোট, কেন্দ্র দখলের চিন্তা থাকলে দয়া করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সামান্যতম কোনো আইনশৃঙ্খলা, আচরণবিধি বা নির্বাচনী আইনের সঙ্গে যায় না—এমন কিছু সহ্য করব না। এ নির্বাচনে আপনাদের যেমন দায়, আমাদেরও তেমন দায়। জাতি হিসেবে সঠিক নির্বাচন আমাদের করতে হবে, যেন পরবর্তী প্রজন্ম বলতে পারে—২০২৬-এর নির্বাচন আমাদের রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’

নির্বাচনী মাঠে সবাইকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলকে বৈধ প্রচারণায় সহায়তা করব। সভায় পুলিশি নিরাপত্তা দরকার হলে দেওয়া হবে। প্রার্থী সবাই সমান—নির্বাচন পর্যন্ত আমরা আপনাদের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করব।’

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মির্জা মো. আরাফাত বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি বেইজ ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যগণ ৫টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবে। ৫টি উপজেলায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোটারাধিকার সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।’

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৩টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৯২১টি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ১১টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে প্রায় ৩৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই ৫টি বেইজ ক্যাম্প থেকে ৫টি উপজেলায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানও চলমান রয়েছে।

ইমতিয়াজ আহমেদ/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর