Logo

সারাদেশ

আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড : জামায়াত আমির

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৪

আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান/ ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টলাবাসীর একটি ঐতিহ্য রয়েছে। অনেকে আক্ষেপ করে বলেন—নামে এটি বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও কাজে তা ফকফকা। তাঁর ভাষায়, কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্দর বিক্রি করে নিজেদের কপাল গড়েছে। আগামী দিনে এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।

আজ সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ মাঠে মহানগর জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

এক হাতে ফ্যাসিবাদ এবং আরেক হাতে মায়ের গায়ে যারা হাত তুলেছে, তাদের লাল কার্ড দেখানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড। মানুষ কোনো কার্ডের ধার ধারে না। মায়েদের গায়ে হাত দিলে আগুন জ্বলে উঠবে। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।’

এ সময় ‘হ্যাঁ ভোট’-এর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘খেলার নাম বাবাজি। এখন তারা হ্যাঁ ভোটের কথা বলতে শুরু করেছেন। তবে তাদের মুখের কথা যেন মনের কথা হয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলা কলি প্রতীক, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মো. শফিউল আলম এবং খাগড়াছড়ি আসনে এয়াকুব আলী চৌধুরীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে এসব প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান তিনি। সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান নিজেদের জন্মভূমির পাহারাদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের জন্য জীবন দেব। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দেওয়া হবে না। কারও কোনো আধিপত্য মানা হবে না।’

চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, প্রতিরোধের রাজধানী হিসেবেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘এই চট্টগ্রাম থেকেই বীর সন্তান কর্নেল অলি আহমদ প্রথম বলেছিলেন “উই রিভোল্ট”। তিনি জিয়াউর রহমানকে হাত ধরে এনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনিই বলেছেন, এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে বলেছিলাম—আল্লাহর দোহাই লাগে, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। কিন্তু এখানে-ওখানে চাঁদাবাজি শুরু হলো, দখলদারি শুরু হলো। এসব কারণে তাদেরই ৩৬ জন মারা গেল। সেই দলের নেতাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা ভালো পথে আসেননি। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়, হুমকি দেয়, কাপড় খুলে ফেলে। তাদের বলব, প্রথমে মাকে সম্মান কর।’

নিজের আইডি হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার আইডি হ্যাক করে এমন জঘন্য বিষয় করা হয়েছে, যা মুখে বলা যায় না। এমন নোংরা কথা জীবনে বলিনি, শুনিওনি। ইতিমধ্যে আবিষ্কার হয়েছে কারা এটা করেছে। তাদের পেছনে কারা রয়েছে, সেটাও আবিষ্কার করা হবে।’

এ সময় তিনি দুই দিন আগে শেরপুরে দলের একজন নেতাকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, জাতি তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জামায়াত আমির

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর