Logo

সারাদেশ

সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, আর সঙ্গে না থাকলে জঙ্গি : গোলাম পরওয়ার

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১৭

সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, আর সঙ্গে না থাকলে জঙ্গি : গোলাম পরওয়ার

নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে দলটির প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার/ সংগৃহীত

বিএনপির সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং খুলনা–৫ আসনের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৯১ ও ২০০০ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সময় যুদ্ধাপরাধী বা জঙ্গি—এ ধরনের কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকে রাজাকার বা জঙ্গি আখ্যা দেওয়ার সংস্কৃতি জনগণ আর গ্রহণ করছে না। সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, আর সঙ্গে না থাকলে জঙ্গি—এই দ্বিচারিতা মানুষ বুঝে গেছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর নামে মিথ্যা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে দাবি করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। এ ধরনের উসকানি শেষ পর্যন্ত যারা দিচ্ছে, ক্ষতি তাদেরই ডেকে আনবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের বিএনপি বন্ধুদের মাথাটা একটু খারাপ হয়ে গেছে। আপনারা টের পাচ্ছেন তো? এত মাথা খারাপ হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামীর পুরুষদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস তাঁদের নেই। এখন আমাদের নারী কর্মীদের গায়ে তাঁরা হাত তুলছেন। দেখছেন তো, অন্তত ১০–১৫ জায়গায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে আমাদের মা–বোনেরা যখন যাচ্ছেন, তাঁদের মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছেন। বোরকা খুলে নিচ্ছেন।’

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে হত্যার প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। এ বিষয়ে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘শেরপুরের এক উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ রেজাউল করিমকে পিটিয়ে–কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের ব্যালট বিপ্লব শুরু হওয়ার আগে তোমরা যদি একটা দলের লোককে হত্যা করো, তাহলে তোমাদের পুরোনো রূপ মানুষের সামনে উঠে আসবে।’

আজ খুলনার খালিশপুরে জামায়াত ও দলটির আমিরকে উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের কোনো তুলনা চলে না। সম্প্রতি জামায়াত আমিরের ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির জড়িত থাকার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সে সময় জামায়াত এককভাবে ১৮টি আসন পেয়েছিল এবং তখন উভয় বড় দলই জামায়াতের সমর্থন চেয়েছিল। তাঁর ভাষায়, তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। পুরোনো বিতর্ক তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর নেই।

ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘আগামীতে কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে ছাত্রসমাজ তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমরা সজাগ আছি, প্রস্তুত আছি। আমার ভোটাধিকার আমি নিয়ে ঘরে ফিরব, ইনশা আল্লাহ।’

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর