সীতাকুণ্ডে ৪৮ ঘণ্টায় ২ যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
মোহাম্মদ জামশেদ আলম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথম মরদেহটি সাগর থেকে এবং দ্বিতীয়টি একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বারবকুণ্ড এলাকায় নিখোঁজ থাকা সালাউদ্দিন (৪৫)-এর মরদেহ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) একই এলাকায় বালু উত্তোলনকারী যন্ত্র (বাল্কহেড) নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। সালাউদ্দিন বাল্কহেডের পাহারাদার ছিলেন এবং ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় তাকে সাগরে ফেলে দেওয়া হতে পারে। নিহত সালাউদ্দিন ৮নং বারবকুণ্ড ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে বারবকুণ্ড উত্তর মাহমুদাবাদ বাজারতলী এলাকার রিকশা গ্যারেজ থেকে সজিব (৩০) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সজিব কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্থানীয় বাবুল মিয়ার রিকশা গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই দিন দুপুরে গ্যারেজ খোলা রাখা নিয়ে বাবুল মিয়ার সঙ্গে সজিবের ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর গ্যারেজের ভেতরে সজিবের রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়। মরদেহের মাথা ও শরীরে ভারী বস্তুর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। গ্যারেজ মালিক বাবুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এদিকে, পরপর দুটি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বারবকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, ‘দুই দিনে দুই হত্যা – এলাকায় কেউ নিরাপদ নয়। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এআরএস

