Logo

সারাদেশ

প্যারোলে মুক্তি মিলল না ছেলের, বাবার লাশ এলো কারা ফটকে

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৬

প্যারোলে মুক্তি মিলল না ছেলের, বাবার লাশ এলো কারা ফটকে

রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী অবস্থায়ই বাবার শেষ বিদায় দেখতে হলো মিলন মিয়াকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বাবা ফুল মিয়া (৬৮) মারা গেলেও প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাবার লাশ কিশোরগঞ্জ কারাগারে এনে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখানোর অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সকালে ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া মারা যান। তিনি কারাবন্দী মিলন মিয়ার বাবা। খবর পেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে তা নাকচ করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, বাবার লাশ কারা ফটকে এনে ছেলেকে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার লাশ কিশোরগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মিলন মিয়া (৪০) ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও দলটির সমর্থক বলে স্থানীয়দের দাবি। কোনো মামলায় নাম না থাকলেও ২০২৪ সালে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জামিন মঞ্জুর হলেও ২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাকে কারাগারেই আটক রাখা হয়।

মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়। আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠানো হলে রাতে জানানো হয়, প্যারোল মঞ্জুর করা সম্ভব নয়; তবে লাশ কারা ফটকে এনে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান বলেন, কোনো মামলায় নাম না থাকা সত্ত্বেও মিলনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভোগার পর ফুল মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, সাধারণত এমন ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু মিলনের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বাবার লাশ কারাগারে এনে শেষ দেখা করাতে হয়েছে— এমন ঘটনা জীবনে দেখিনি।

তিনি আরও জানান, বাবার লাশ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে দুপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও তাতে অংশ নিতে পারেননি মিলন।

প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ মন্তব্য করতে অপারগতা জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি না পেয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশের শেষ দেখা দেখেন— যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আওয়ামী লীগ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর