কুমিল্লা-১১
‘দিনরাত মাদক আর চিনি আসে বর্ডার দিয়ে, এসব বন্ধ হওয়া দরকার’
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১৫
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের বিষয়টি ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি সভা শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। তারা এলাকার সমস্যা, উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন।
উজিরপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা সামছু মিয়া (৮৫) বলেন, নির্বাচনের সময় নেতারা এলাকায় এলেও পরে আর খোঁজ রাখেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দিনরাত সীমান্ত দিয়ে মাদক আর চিনি আসে। গরিব মানুষ সাইকেলে করে চিনি এনে বিক্রি করে, আর মাদক বড়দের ব্যবসা। এগুলোর সঙ্গে প্রভাবশালীরাও জড়িত। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।”
নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার এলাকায় জামায়াতের প্রতি সমর্থন বেশি।
তরুণ ভোটার আব্দুর রাজ্জাক হাসান বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ এলেও অনেক সময় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। তার মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। “প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে ভোট ভালো হবে, না হলে দখল আর সংঘর্ষ হবে,” বলেন তিনি।
কৃষ্ণপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোহন মিয়া জানান, এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলেরই সমর্থন রয়েছে। তার মতে, জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে। তবে তিনি এখনো নিজের ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা-১১ আসনে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার হয়ে আসছে। এতে স্থানীয় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৯৭৭ জন। পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার ৫৪১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২৭টি, যার সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
কুমিল্লা-১১ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির কামরুল হুদা, জামায়াতের সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আ হ ম আবদুর রহীম, মুক্তিজোটের মোহাম্মদ ইউসুফ, গণফ্রন্টের মো. আলমগীর, ইসলামী আন্দোলনের মহিউদ্দিন শহিদ এবং জাতীয় পার্টির মো. মাইনুদ্দিন।
এবার এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। অতীতে এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের মধ্যে লড়াই বেশি দেখা গেছে।

