ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ মওকুফ : তারেক রহমান
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:২০
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। সে কারণেই বিএনপি জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও শক্তির মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠন করতে চায় দলটি। তিনি বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মা–বোনদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা বিএনপির লক্ষ্য। এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্যই ধানের শীষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছান। পরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জনসভায় যোগ দেন।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর শীতে তিনি ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে আসতেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে দুস্থ মানুষের জন্য গরম কাপড় নিয়ে হাজির হতেন। তিনি বলেন, আজ তিনি ভিন্ন পরিস্থিতি ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আবার ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও সফরের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের যে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার মানুষ প্রয়োগ করবে।
মঞ্চের পাশে জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এখানে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা তাঁদের স্বজন হারিয়েছেন। দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের স্বজনেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই অবদান বৃথা যেতে দেওয়া যায় না।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। এর ফলে আজ দেশের কোটি নারী শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতি ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চায় বিএনপি। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে।
নির্বাচনী জনসভায় প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ হবে না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল, রেশম কারখানা ও চা শিল্প আবার গড়ে তোলা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার এবং আইটি পার্ক বা আইটি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মা–বোন ও শিশুর জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বন্ধ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, হাজার বছর ধরে এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। আগামীতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই সবাই এগিয়ে যাবে।
বক্তব্য শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর–১ আসনের ধানের শীষের ছয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণ তাঁদের দিকে নজর রাখবেন। নির্বাচিত হলে তাঁদের দায়িত্ব হবে ২৪ ঘণ্টা জনগণের পাশে থাকা।
#### তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা
ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র করে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। বিএনপি জয়ী হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
শনিবার দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়; এটি জাতি পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। তাঁর অভিযোগ, টানা ১৬ বছর স্বৈরাচার সরকার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে চায় এবং দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায়।
নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম সাইফুল্লাহ রুবেল।
#### দিনাজপুরে কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি
এর আগে শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি দুস্থ মানুষদের নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জনসভায় তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। দিনাজপুরে উৎপাদিত আম, লিচু ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, খেটে খাওয়া নারীসহ সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। কৃষকদের কাছে সার ও বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে। সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং ইমাম–খতিব ও ধর্মীয় গুরুদের মাসিক সম্মানী নিশ্চিত করা হবে।
দিনাজপুরকে ধানের জেলা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি ধানের জন্যই ভোট চাইছেন। দিনাজপুরকে নানির বাড়ির জেলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাতি হিসেবে তিনি ধানের শীষে ভোট চাইছেন।

