কুমিল্লায় ভোটের আগেই সতর্কতা, ঝুঁকিতে ৯৩৪ কেন্দ্র
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জেলার ১১টি আসনের ১৭ উপজেলার মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বিগত নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার অভিজ্ঞতার কারণে এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার স্মৃতি এখনো তাজা। ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেঘনা উপজেলায় সহিংসতায় দুজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। ওই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনেও সংঘর্ষ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার নুরুল আমিন জানিয়েছেন, শতভাগ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায়, সেখানকার ১৫৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় উপজেলাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মেঘনা উপজেলার মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
এআরএস

